মাশরুম
মাশরুম অত্যান্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি খাবার। এর পৌষ্টিক মান এর কারণে খেতে পারেন যে কোনো ভাবে। মাশরুম কম ক্যালোরি এবং উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যাতে আছে প্রচুর পরিমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। এতে শর্করা রোধক বেশ কিছু উপাদানও রয়েছে।
চলুন জেনেনেই কেনো মাশরুম খাওয়া উচিৎ এবং এটা আমাদের শরীরের কি কি উপকার সাধন করে:
ক্যান্সার প্রতিরোধ:
মাশরুমকে ক্যান্সারের প্রতিরোধক এবং নিরাময়ক হিসেবে মনে করা হয়। মাশরুমে পরিমিত মাত্রায় সেলেনিয়াম থাকে যা, কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে এবং ইউনিভার্সিটি অব স্টার্থক্লাইড জাপানি গবেষণা বিষয়ক একটি রিভিউ থেকে জানায় যে, বিশেষ প্রজাতির কিছু মাশরুম কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশনজনিত বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ:
ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য মাশরুম একটি আদর্শ খাবার। ফ্যাট ও শর্করা কম এবং আঁশ বেশি থাকায় বহুমুত্র বা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মাশরুম বিশেষ উপকারী ও ডায়াবেটিস রোগীদের আদর্শ খাবার। নিয়মিত খেলে ব্লাড সুগার কমিয়ে আনা সম্ভব।
হৃদরোগ প্রতিরোধে:
মাশরুমে কোলেস্টরেল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাষ্টটিন, এনটাডেনিন, কিটিন এবং ভিটামিন বি,সি ও ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার) ও হৃদরোগ নিরাময় হয়।
ইমিউন সিস্টেম উন্নয়ন:
মাশরুম যে ইমিউন সিস্টেমের জন্য খুবই উপকারী তাতে সন্দেহ নেই। ইমিউন সিস্টেম জীবের এমন এক ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া- যার মাধ্যমে দেহ যেকোনো রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে:
প্রাণিজ প্রোটিনের মতো এতে কোলস্টেরল না থাকায় এবং ফ্যাট কম থাকায় সব বয়সের মানুষের জন্য এবং রোগীদের জন্যও আদর্শ খাবার। কলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং পরিপাক সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাশরুম সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন এক ধরনের অভিজাত সবজি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের মাশুরুম চাষ হচ্ছে। মাশরুম দ্বারা জ্যাম, জেলি, আচার, ইত্যাদি তৈরি করা যায়। রুপ চর্চাতেও মাশরুমের ব্যবহার আছে। মুখের কাল দাগ দূর করা, মুখের রঙ উজ্জল করা, ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করা ও চুল পড়া রোধ করা ইত্যাদিতে পাউডার মাশরুম অত্যন্ত উপকারি।-সূত্র: মেডিক্যাল নিউজ।
বিশ্ব জুড়ে মাশরুম আজ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবী (সা.) জানতেন মাশরুম চোখের জন্য ভালো। এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক ও মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীরের প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।
1. শাক-সব্জি সবার জন্যই প্রায় সব-সময় ই ভাল। তাই আপনার শিশুকে বেশী করে নানা শাক-সব্জি খাওয়ার অভ্যাস করাতে পারেনান, বিশেষ করেনা লাল শাক, পুঁই শাক, কচু শাক, মিষ্কি কুমড়া, মাশরুম, ব্রুকলি, লাউ আপনার টাক্লু শিশুর জন্য খুবই উপকারী।
2. পুষ্টিকর ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজি হিসেবে মাশরুমের বেশ কদর রয়েছে। তাই স্থানীয়ভাবে এর ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। এখন মাশরুম নিয়ে কাড়াকাড়ি হয়। মাংস কিংবা মাংসের বিকল্প পুষ্টি হিসেবে রান্নায় সুস্বাদু মাশরুমের জুড়ি নেই।
3. পায়ের চামড়া ফাটা রোধ করার জন্য মাশরুম খেতে পারেন।
4. বারাদি হর্টিকালচার সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাহিদুল আমিন জানান, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ, মেদভূড়ি, জন্ডিস ও রক্তস্বল্পতাসহ জটিল রোগ প্রতিরোধে মাশরুমের জুড়ি নেই। শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের আদর্শ খাবার এটি।
5. মাশরুমে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ভিটামিন এবং ফাইবার যা সর্দি-কাশি রোধের পাশাপাশি দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে।
6. বর্তমান পৃতিবীর অধিকাংশ দেশে মাশরুম অত্যন্ত, সুস্বাদু পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় একটি খাবার । কিন্ত তাই বলে সব মাশরুম কিন্ত খাবার উপযোগী নই। মাশরুমের প্রায় 611,০০০ প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে বেশীরভাগই খাওয়ার অনুপযোগী কারণ এগুলো বিষাক্ত। কিছু কিছু মাশরুমের নামই এর ভয়াবহতার পরিচয় বহন করে। যাদের মধ্যে ডেথ ক্যাপ ও ডেস্ট্রয়িং অ্যাঞ্জেল অন্যতম। এছাড়াও মাশরুমের অনেক প্রজাতি আছে যারা সহজলভ্য কিন্তু স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বেশি। যে মাশরুমগুলো খাওয়ার উপযোগী ও পুষ্টিকর সেগুলো বর্তমানে চাষ করা হচ্ছে। বাদ বাকি মাশরুম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
গবেষণারমাধ্যমে জানানো হয়েছে, গবেষণার অংশ হিসেবে মিষ্টি পানীয়েরপ্রতিক্রিয়ায় শর্করার মাত্রা কেমন থাকে তা দেখার জন্য ১৯ থেকে ২৯ বছরবয়সী আটজন পুরুষ ও ১০ জন নারীকে দুই সপ্তাহ ধরে ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্সটেস্ট পরীক্ষা করা হয়। এদের প্রত্যেককে সমান মিষ্টি তিন ধরনের পানীয়খাওয়ানো হয়। এই পানীয়ের মধ্যে ছিল ৭৫ গ্লুকোজ ড্রিঙ্ক, ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজড্রিঙ্কের সঙ্গে ৯.৫ গ্রাম পোর্টোবেলো পাউডার, ৯.৫ গ্রাম পোর্টোবেলোপাউডারের সঙ্গে সুগন্ধী পানি। পরীক্ষার ফল হিসেবে দেখা যায়, গ্লুকোজড্রিঙ্কের সঙ্গে পোর্টোবেলো পাউডার খাওয়ার ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমেগেছে।
এই গবেষণার প্রতিবেদনে জানানোহয়েছে, এই পরীক্ষায় এটা স্পষ্ট য়ে মাশরুম রক্তে শর্করার মাত্রানিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গ্রাহকের ওজনে ভারসাম্য রাখে। তবে এ বিষয়ে সবচেয়েবেশি কার্যকরী ফল পায় নারীরা।
